Friday, April 15, 2022

সূচিপত্র ও প্রচ্ছদ নববর্ষ সংখ্যা

সকল পাঠকবর্গ ও লেখকবর্গকে বাংলা নববর্ষের প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এভাবেই পাশে থাকবেন।
                           - স্বরূপিনী পত্রিকা পরিবার 

                        সূচিপত্র
             (তৃতীয় অনলাইন সংখ্যা) 

প্রবন্ধ 


মুক্তগদ্য 


ছড়া


কবিতা 



গল্প 


কবিতা ২


আঁকা ছবি 


মুভি রিভিউ 


কী খাবেন?  






গ্রীষ্মের খাদ্যাভ্যাস



ভারতীয় উপমহাদেশের এক এক প্রান্তে গরমের ধরনটা এক একরকম। পূর্বদিকে যান, আর্দ্রতার চাপে হাঁসফাঁস করবেন, রাত-দিন গলগলিয়ে ঘাম বেরোবে। উত্তর আর উত্তর-পশ্চিমের গরমটা একেবারে শুকনো, খটখটে। দুপুরবেলা শুকনো হাওয়া বয়, গরমের দিনেও ত্বকের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয় তা। চড়চড়িয়ে গা-হাত পা, ঠোঁট ফাটে। দক্ষিণের গরম গনগনে তীব্র, অনভ্যস্ত হলে বেশিক্ষণ সহ্য করা মুশকিল। তাই আমাদের দেশে সুপ্রাচীনকাল থেকেই গরমের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নানা হাতিয়ারে শান দিয়ে রাখার ব্যবস্থাও আছে। আপনি রোজ যা যা খাচ্ছেন, তারই উপর নির্ভর করবে শারীরিক সুস্থতা। তাই প্রাচীনকাল থেকেই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে মেনে চলা হয় বিশেষ খাদ্যতালিকা। জানতে চান, তার আবশ্যক উপাদান কোনগুলি?

ডাবের জল: ডাবের দাম বেশি নয়, কিন্তু তা আপনার শরীরকে শীতল ও আর্দ্র রাখতে দারুণ কার্যকর। এর মধ্যে নুন ও অন্য নানা খনিজ উপাদান থাকে, তা আপনার সামগ্রিক সুস্থতার জন্য খুব দরকারি। ভারতের উপকূল অঞ্চলে প্রচুর ডাব হয়, গরমের দিনে ইচ্ছে করলেই আপনি 2-3টি ডাবও খেতে পারেন। ডাবের জল কিন্তু আপনার ফেস মাস্কের বেস হিসেবেও চমৎকার!

দই: দোকানে পাতা কড়া মিষ্টির লাল দই এক আধদিন চলতে পারে, রোজ খাওয়ার জন্য ভালো কিন্তু ঘরে পাতা সাদা টক দই। দক্ষিণীদের মতো কারিপাতা, আদা-কাঁচালঙ্কাকুচি, সরষে ফোড়ন দেওয়া পাতলা ঘোল বানান বা উত্তর ভারতীয় ঘরানায় মালাই লস্যি বা রায়তা তৈরি করুন, দই ছাড়া আপনার গ্রীষ্মকাল অচল! প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের উৎস হিসেবেও দই আদর্শ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তা অবশ্যই রাখবেন।

তরমুজ, ফুটি, শসা: তরমুজে লাইকোপিন থাকে, ফুটিতে আছে ক্যারোটিন, শসা অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে রাখে শরীরের পিএইচ ব্যালেন্স। এছাড়া এই তিনটি ফল থেকেই পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণ জল। বাদ দেবেন না তাজা আপেল, আঙুর, বেদানা। গরমকালে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর জল বেরিয়ে যায় শরীর থেকে, সেই ঘাটতি পূর্ণ করার জন্য এই ধরনের ফলগুলি আদর্শ।

পুদিনাপাতা: পুদিনাপাতা হজমের পক্ষে সহায়ক, তা শরীরের তাপমাত্রা কমায় এবং আপনাকে চনমনে করে তোলে। পুদিনা আপনার শরবতে যোগ করুন, চাটনি তৈরি করে রাখতে পারেন, রায়তায় দিলেও খেতে দারুণ ভালো লাগে।

লাউ, কুমড়ো, করলা: লাউ আপনি রান্না করে খেতে পারেন, জ্যুসও খাওয়া যায়। তা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। জানেন কি, 100 গ্রাম লাউয়ের 96 শতাংশই জল, আর তা থেকে আপনার শরীর বড়োজোর 12-13 ক্যালোরি পায়! কুমড়ো দিয়ে আপনি ইত্যালিয়ান স্যুপও বানাতে পারেন, ছক্কাও চমৎকার খেতে হয়। করলায় আছে ভিটামিন এ, কে, সি, বি টু বি থ্রি, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি। প্রতিটি সবজিই শরীরকে প্রয়োজনীয় জল জোগাবে, রান্না করতেও খুব বেশি তেল-মশলার প্রয়োজন হয় না। খেতে পারেন পটল, ঝিঙে, স্কোয়াশও।

পেঁয়াজ: শুনতে একটু আশ্চর্য লাগলেও এ কথা ঠিক যে পেঁয়াজ আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং গ্রীষ্মকালের খাদ্যতালিকা থেকে তা বাদ দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। যাঁরা কাঁচা পেঁয়াজের গন্ধ অপছন্দ করেন, তাঁরা আগে থেকেই নুন-লেবুর রস মাখিয়ে রেখে দিন, পেঁয়াজের ঝাঁজ অনেকটাই কমে যাবে। রান্নাতেও ব্যবহার করতে পারেন স্বচ্ছন্দে।


ছবি || তন্দ্রা ব্রহ্মচারী










মুভি রিভিউ || The Kashmir Files || মলয় কোলে



গত ১১মার্চ ২০২২ সালের মুক্তি পেয়েছে "দ্য কাশ্মীর ফাইলস"। ছবির পরিচালক হলেন বিবেক অগ্নিহোত্রী। ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তী, দর্শন কুমার, পল্লবী যোশী, চিন্ময় মাণ্ডলেকর, প্রকাশ বেলাওয়াড়ি, পুণীত ইসার।

ছবিটিতে রয়েছে প্রায় তিন দশক আগের ঘটনার প্রকৃত সত্য।ছবির ভিত সরকারি সংগ্রহশালায় বন্দি করে রাখা ‘কাশ্মীর ফাইলস’ নামের বিস্ফোরক নথি। এই নথির উপর ভিত্তি করেই নানা চরিত্র ও ঘটনা তুলে এনে সিনেমার পর্দায় দেখিয়েছেন পরিচালক। ১৯৯০ সালের পয়লা জানুয়ারি সমগ্র কাশ্মীরে (Kashmir) যে পাঁচ হাজার হিন্দু পণ্ডিত ব্রাহ্মণদের গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল – সেই ‘আজাদি’কামী জেহাদিদের সহিংস স্লোগান ছিল ‘রালিব’, ‘গালিব’ ও ‘চালিব’ যার সোজা সাপটা অর্থ – “জেহাদি হও, না হয় মরো, নইলে কাশ্মীর ছাড়ো।” সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা মাত্র দু’হাজার, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা ৫ থেকে ৬ হাজার।ছবিতে দেখানোও হল অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে জেহাদিদের হিংস্র স্লোগান “কাশ্মীর শুধু কাশ্মীরি মুসলমানদের, এখানে থাকতে হলে আজাদিকে সমর্থন করো, নইলে কাশ্মীর হবে হিন্দু পুরুষহীন, শুধু হিন্দু মহিলারা থাকবেন। বাড়ি, ঘর জ্বালিয়ে, পুলিশ সেনাদের পোশাক পরে নাদিমার্গে ২৪ জন কাশ্মীরি পণ্ডিতকে জবাই করেছে তথাকথিত জেহাদিরা। বিবেক অত্যন্ত সাহসের সঙ্গেই ঘটনাগুলোর হিংস্রতা ও ভয়াবহ মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় তুলে ধরেছেন। বিরতির ঠিক আগে গাছে গাছে পণ্ডিতদের মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখার মতো নৃশংস দৃশ্য দেখলে কষ্ট হয়, দুঃখ হয়, বিরক্ত লাগে, রাগ হয়।

কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু প্রবীণ পণ্ডিত পুষ্করনাথ (অনুপম খের)। তাঁরই পরিবার, মেয়ে, ছেলে খুন হয়। একমাত্র ছোট নাতি কৃষ্ণ(দর্শন) বেঁচে থাকে। পুষ্করকে আশ্রয় নিতে হয় উদ্বাস্তু ক্যাম্পে। ৩২ বছর পর দাদুর চিতাভস্ম শ্রীনগরের পরিত্যক্ত বাড়িতে পৌঁছতে তার সঙ্গে আসে দাদুর চার বন্ধু, দু’জন পুলিশকর্তা(মিঠুন চক্রবর্তী ও পুণীত ইসার), একজন সাংবাদিক, আর একজন প্রতিবেশী। কৃষ্ণের সঙ্গে এঁদের কথোপকথনের মধ্য দিয়েই অতীত ও বর্তমান উঠে আসে।
বিবেকের চিত্রনাট্য শুধু স্বাধীন কাশ্মীর পাবার হিংস্র আন্দোলন দেখায়নি, দেখিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবতাবাদী গোষ্ঠী, নরম ও চরমপন্থীদের সুবিধাবাদী কাজকর্মও। সুবিধা ভোগ করার জন্য ‘আজাদি আন্দোলন’ জিইয়ে রাখার বিষয়টিও বাদ যায়নি।একসময় কাশ্মীরে অধিকাংশ সরকারি উচ্চপদে কাজ করেছেন শিক্ষিত হিন্দু পণ্ডিতরা। মুসলমানদের রাগের অন্যতম কারণও তা দেখানো হয়েছে। একটাই অস্বস্তি, অতীতের ঘটনা যেভাবে দেখানো হয়, বর্তমানেও দৃশ্যের অন্তত লোকেশনের তেমন পরিবর্তন ক্যামেরায় উঠে আসে না। ভিজ্যুয়ালের জোর নাটকীয়তায়, ঘটনার তীব্রতায়।

শ্রীনগর থেকে সাংবাদিকের পাঠানো সব খবর প্রকাশ পায় না সরকারি নিয়মের বেড়াজালে। তা স্বীকারও করে নেওয়া হয়। যখন এক বন্ধু বলে ওঠেন, “মিথ্যা খবর প্রচারের চাইতে সত্য খবর লুকোনো আরও বড় অপরাধ।” এখন তো সংবাদপত্র ও টিভির পর্দায় সত্য খবর খুঁজে পাওয়া মুশকিল, মিথ্যার প্রচার শুধু। প্রচার মাধ্যমের এমন অবনতির দিকে সরাসরি আঙ্গুল তোলার জন্য ধন্যবাদ। তবে হ্যাঁ, প্রায় তিন ঘণ্টার এই ছবিকে আড়াই ঘণ্টা পরিধিতে আটকাতে পারলে পরিচালকের বক্তব্য আরও তীব্র ও তীক্ষ্ণ হতে পারত। 

গোটা দেশে এত চর্চিত হয়ে উঠল সিনেমাটি। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীও সংসদীয় বৈঠকে বললেন এই সিনেমাটি সকলের দেখা উচিত।

The Kashmir Files.

পূর্ব বর্ধমান

কবিতা || অবসরে || করবী দাস



আজ আর হারিয়ে যাওয়ার কথা বলবো না
 আজ শুধু মনে রাখার কথা বলবো। 
সময় পেলে মনে ক'রো, 
অবশ্য কাজ বাদ দিয়ে নয়, 
তুমি কাজ করতে করতে কখনো
                            চোখ তোলো না
                             চোখের পাতা ফেলো না —
          তখন আমাকে মনে করো ।
অথবা,
 কোনো হারিয়ে যাওয়া গানের কলি 
ফেলে আসা কবিতার ছন্দ 
         ভালোবাসার গন্ধে —
         মনে ক'রো আমাকে...


আকাশে মেঘ দেখো না, 
সবুজ ঘাসে পা রেখো না, 
তখন, তখন আমাকে মনে করো। 
ফুলের গন্ধে বাতাসের আলতো ছোঁয়ায় 
প্রেমের কানাগলি বেয়ে 
                          মনে করো আমাকে...


অবসরে মনে মনে প্রেমের কবিতা সাজিও, 
অন্ধকার ঘরে সা-রা-রাত
চুপি চুপি মনের কথা আমাকে ব'লো...
ভাবছো হয়তো, 
               আমি শুনতে পাব না, 
মন দিয়ে ব'লো —
তারা আমার অন্তরে সাড়া দিয়ে যাবে...

শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার ফাঁকে 
                  যেটুকু সময় থাকে, 
আলোর সাথে আঁধার মেশার আগে 
                    যেটুকু সময় থাকে 
তোমার সব ভাবনার ফাঁকে 
প্রেমের শিশির মাখতে ইচ্ছা হলে 
                     আমাকে মনে ক'রো। 

কখনো যদি ভীষণ উদাস হতে ইচ্ছা করে 
            তাহলে হাত বাড়িয়ে ডেকো আমাকে,
                               তোমার একলা আঙিনায় 
             ভালোবাসার আবেশ নিয়ে ধরা দেব
                                 তোমার হৃদয়ে...



করবী দাস 
চক পীতাম্বর দত্ত, শিবগঞ্জ, বাসন্তী, 
দঃ ২৪ পরগণা।