Friday, July 15, 2022

কবিতা || সায়নী আচার্য্য




পাহাড়ি রূপ

সায়নী আচার্য্য 

হৃদয় আমার মধুর ডাকে
ছুটে যায় বারে বারে।
পথ হারিয়ে আঁধার কুড়োয়
অজানা অভিসারে।
সবুজে ঘেরা চাদরের ন্যায়
বিস্তৃত তার রূপ।
গগনচুম্বী পাহাড় জেগেছে,
হয়েছে অপরূপ।
ঘন বনের মধ্যে আছে
অজানা এক শব্দ।
পাহাড়ি নদীর স্রোতের ধারায়
পাথর হয়েছে জব্দ।
নদীর স্রোতে ছিন্নভিন্ন
পাথরের বড়ো চাঁই।
চাইছে যেন নদীর কাছে 
একটুখানি ঠাঁই।

    



    ঠিকানা-ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া
             কোলকাতা-৭০০০৫৮


  

কবিতা || সুশান্ত সেন




গ্রাম

সুশান্ত সেন

গ্রাম এর কাছে এই জীবনে হয় না যাওয়া
শহর জোড়া জীবন নিয়ে চলতে থাকি
শহর জন্ম শহর মৃত্যু , শহরে শেষ
জানি না ত পূর্ব পুরুষ কোন গ্রামেতে
জন্ম নিয়ে এসে ছিল এই শহরে !
শহর শহর শহর খেলা রাত্রি দিনের।
গ্রাম তো এখন রাত্রি দিনের স্বপ্নে দেখি
দূর থেকে ত দেখতে থাকি চলার পথে
না হয় তুলি কাগজ নিয়ে আঁকতে বসি 
এই জীবনে হলোই নাতো গ্রামে থাকা।
জীবন জীবন জীবন কখন শেষ হয়ে যায়
গ্রামের মায়া গ্রামের মাটি চোখেই থাকে।




৩২বি, শরৎ বসু রোড
কলিকাতা ৭০০০২০




কবিতা || অজিত কুমার জানা




আগুন 

অজিত কুমার জানা 

আগুন ও জীবন একাত্ম হলে, 
জীবন জ্বলে, আগুন পুড়ে। 
তলার মাটি শক্ত স্বাধীন, 
দূষণ মুক্ত নদী স্রোত। 

পাতা পুড়ে ছাই হয়, 
ছাইভস্ম উড়ে হাওয়ায় চৌদিক। 
স্বপ্ন নুড়ি, পাহাড় আলো, 
সেলাই আঘাত স্বাধীন কোলাহল। 
ব্যালকনির প্রতিদিন অগনিত প্রাপ্তি, 
আদর্শ অস্তিত্বের পুষ্পিত কানন। 

অরক্ষনীয়া দুঃখ বীজ পুঁতে, 
স্বপ্ন আলাদা, ভীষণ সবল।
আগুন নক্ষত্র পাখি যাযাবর, 
আগুন পোড়ায় রামধনু আঁকে। 

আগুনের ভেতর হাঁটে জীবন, 
জীবন অমৃত পান করে, 
আগুনের একটু ছোঁয়ায়।




গ্রাম +পোষ্ট-কোটরা, থানা-শ্যামপুর, 
জেলা-হাওড়া, পিন ৭১১৩০১,
পশ্চিমবঙ্গ




কবিতা || স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়









জগতী-ছেদক 

স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় 

হাউ হাউ করে ঝড় উঠছিলো যখন, আমি উঠোনের কাছে জল ছুঁয়ে বসে আছি আর নারকেল গাছ মাথা দোলাচ্ছে তখন।
বেণু বিনে গান গাইলাম আমি যখন, দেখি কোন গ্রাম থেকে এসে সাদা মেয়েটা ছিন্ন মেঘের বর্ষাফলকে হাসছিলো কেমন! 
তার খোলো ওই চাঁদের গ্রহণ ডাকছে; রহস্য দিয়ে আঙুলের ফাঁকে আজন্মকাল অভিমান হয়ে বাড়তে বাড়তে থেমে গেলো। 
দাউ দাউ করে এগিয়ে বললে কখন; দেখি খ্যাপাটে মেয়েটা খুব একা একা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চশমার কাচে কাঁদতে কাঁদতে এলো।
  
টুকরোর কণা শুঁকে শুঁকে ভাললাগছে; সাপ ছেড়ে ওই বাধের কাছে তিল পড়ে আছে মেয়েটার বুকে সাপ ছেড়েছুঁড়ে জবরখাস
খাই খাই করে যেই ঝাঁপ দিলাম গহ্বরে; কুণ্ডল খুলে গেলো আমি রথে নেই তাও রথের চাকার মাটির মুখ আমার মুখে বেঁধাস! 
বিরাট বিরাট আমি-কীচকের মুখটা; বলতে বলতে খোঁপাটা খুলতে খুলতে রাতটা ভাঙতে ভাঙতে জগৎ প্রাণেতে আসতো?
রাধা বিনে শ্যাম কতোবার তুমি ঝুলেছো; সে ভালোবাসলে এতো রাগ করে বিছানায় পড়ে পড়ে কেউ কি আমাকে গালাগাল দিতে পারতো?
চামেলি-বিতানে ছায়া পড়ে খুব ময়ূর; মৃগয়াবিলাসী তিনি কবি নন চিত্রচিন্তা করে করে তিনি একাংকরীতি ধরে রাখতেন। 
গোখরোর ফণা জিভ-বের করা মুখটা; কি কচি আর কি শুচি লাগছে মেয়ে গোখরোটা ছেলে গোখরোটা তোমাকেই ভালোবাসছেন।

বনবন করে ঘোরো গোবিন্দদাস হে; চিন্তার চেয়ে তদ্বির ভালো গাড়ির বনেটে অস্তাচলের  শ্যামকল্যাণ-রসকলি তুমি বেবি!
চোখের কোণায় মালকোষ পোষো মূরতি, ওর কাছে এতো লজ্জা ঢাকলে সস্তা উপায়ে দ্যাখা হওয়া ধান ওল্টাতো খুব হেব্বি? 
সম্বর-শিরা যেখানে যেমন ক্যাথিটার; তাও কেউ যেন খাবি খেতে চায় ডিসেম্বরের শীত উৎসব মেনুর দখিন-বায়, হায়, 
দেখেছি তো সব মনপসন্দই নেকি; হামাগুঁড়ি দিয়ে বুড়ো ভ্যাচকালে এদিকে ছুঁড়ির তপস্যাবলে নাচিছে যেন প্রতাপ রায়! 
রমাই এগোলো ভেতরে ঢুকলো বিকেলে; আর দরবারি কানা রাগ শোনানোয় বেছে বেছে তার তিনকাল মধু উপচে দিয়েছে পাত্রে।
আমি কি ঘোড়ার আঁকাবাঁকা হ্রদ হংসী; প্যাঁক প্যাঁক করে কাল ও ভদ্রে সামনে পিছনে টিপে টিপে জ্বর মাপবে আর পারদে লিখবে সাঁত্রে? 
অস্তিত্বের সংঘাত না হাফডোজ; তার হৃদি ও মন্ত্রে বিভিন্নতার পাঁজাকোলে-করা রোগীর চুমুতে কে দেয় আমায় পীড়া? 
কেউ দেয় না শুধু সন্ধানে ডুবডুব; ডুবসাঁতারের লেলিহান মন আগে তো ভাসার সাঁতারটা শিখে চটপটে হবে ত্রিধারা! 
চোখের সাদা দীপ্তির নিচে সামকালো; উল্টেপাল্টে ছেদ, যতি টেনে খুব পূর্ণিমা ভ্রু-পল্লবিনী নীলকান্তিতে হাসছে। 
খয়রাত তাই শব্দের মনবিকানো; কুয়াশার রাতে যায় কিছু দ্যাখা তাই শীতমেয়ে গরল-হাসিতে অভিগত-গোল আঁকছে।  



৮৫, সুকান্ত নগর, ভদ্রেশ্বর,
ডাকঘর: অ্যাঙ্গাস, জেলা: হুগলি,
ডাকসূচক: ৭১২২২১


   

ছড়া || মানস চক্রবর্তী







শরতের পদ্য

মানস চক্রবর্তী

আমপাতা জামপাতা ঝরে পড়ে টাপটুপ
ফুট কেটে শোল মাছ ঘোলা জলে দেয় ডুব।

ফুলে ফুলে মৌমাছি গুনগুন গান গায়
একঝাঁক টিঁয়া ঐ নীলাকাশে উড়ে যায়।

টলটলে দিঘিজলে হাসে লাল পদ্ম
    কবিমন বুনে চলে শরতের পদ্য।

সরবরে থরেথরে শালুকেরা ফুটছে
ফুলেদের কাছে কত অলি এসে জুটছে।

হৃদয়টা রঙে-রঙে রামধনু আঁকছে
বর্ষা বিদায় নিয়ে শরৎকে ডাকছে।




উত্তর বাওয়ালী, নোদাখালী,
দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা,
পিন--৭০০১৩৭